ব্রেকিং নিউজঃ
 
Fri, 24 Nov, 2017

 

 

 

 

     
 

‘১২৩ শতাংশ বেতন বাড়ানোর পরও কেন এত অসন্তোষ’

বাংলাদেশ বার্তা ২৪.কম/ জাতীয়/ জানুয়ারি/ ১২৩শতাংশ বেতন বাড়ানোর পরও সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে কেন এত অসন্তোষ তা নিয়েবিস্ময় প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নতুনবেতন কাঠামোতে বৈষম্য নিরসনের দাবিতে কর্মবিরতি শুরু

করা পাবলিকবিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে ফেরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষকদের জন্য আরও কিছু করার থাকলে, সরকার সেটা অবশ্যই বিবেচনা করবে।ছেলে-মেয়েদের পড়াশোন বন্ধ করবেন না। ক্লাস না নিয়ে ছেলে-মেয়েদের  লেখাপড়াবন্ধ করলে তারা তা মেনে নেবে না। আপনারা শিক্ষক, আপনারা সম্মান নিয়ে থাকুন।সমস্যা হলে আমরা দেখব। শিক্ষা বন্ধ করবেন না; বিশ্ববিদ্যালয়গুলি সচল করতেহবে। বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ও তার বড়ছেলে তারেক ও তারেক রহমানের যোগসূত্র ছিল বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখহাসিনা। সোমবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ আয়োজিতবঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের আলোচনা সভায প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপিনেত্রী প্রায়ই বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ২০০৯ সালে সরকারগঠন করলাম। দুই মাসের মধ্যে শুধু পিলখানায় নয়; সমগ্র বাংলাদেশে সেই যুদ্ধশুরু হয়েছিল। আমরা মাত্র দুই দিনে কন্ট্রোল করি। নতুন সেই সরকার কেনএকটা বাহিনীতে বিদ্রোহ ঘটাবে- এমন প্রশ্ন রেখে খালেদা জিয়াকে ইঙ্গিত করেপ্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি কেন ক্যান্টনমেন্ট থেকে আন্ডারগ্রাউন্ডে গেলেন? সকাল সাড়ে ৭-৮টর মধ্যে কেন বাড়ি ছেড়ে চলে গেলেন, সেই জবাব জনগণকে দিতে হবে।আমার ধারণা হয়, ওই ঘটনার সঙ্গে তার যোগসূত্র ছিল। বিডিআর বিদ্রোহেরআগের রাতে খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান লন্ডন থেকে  ফোন করেন দাবি কওেশেখ হাসিনা বলেন, তার ছেলে লন্ডন সময় রাত ১টায় ৪৫ বার  ফোন করে বাসা থেকেবের হয়ে যেতে বলেছে। কেন তার মাকে ঘর থেকে বের হয়ে যেতে বলেছে? জনগণের কাছেএর জবাব তাদের দিতে হবে। ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারির ওই বিদ্রোহে নিহত ৫৭জন সেনা অফিসারের মধ্যে ৩৩ জনই আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান- একথা জানিয়েশেখ হাসিনা বলেন, তাদেরকে কেন সেখানে পোস্টিং দেয়া হয়েছিল- সেটাও একটাপ্রশ্ন। হাইকোর্টে এই হত্যা মামলার বিচার চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এইষড়যন্ত্রের মূলোৎপাটন একদিন করব। বেতন কাঠামোর জন্য পাবলিকবিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চলমান আন্দোলন যৌক্তিক নয় উল্লেখ করেপ্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন আন্দোলন করা তাদের মানায় না। শিক্ষকদের সম্মানঅনেক উপরে। সেই মর্যাদাই তারা পাক। ছাত্রদের জিম্মি করে এ আন্দোলন মোটেইসম্মানজনক না। ক্লাস বন্ধ করে শিক্ষকদের এ আন্দোলনে চরম ক্ষোভ প্রকাশকরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এত বড় বেতন বাড়ানোর পরও কেন এত অসন্তোষ! সেটাইআমাদের শিক্ষার বিষয়। শিক্ষকদেও উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর যদি এতমর্যাদাই লাগে, চাকরি ছেড়ে দিয়ে পিএসসিতে (পাবলিক সার্ভিস কমিশন) পরীক্ষাদিয়ে সচিব হয়ে যান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর দিয়ে মেট্রোরেলের রুটেরবিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মেট্রোরেলনির্মাণের পদক্ষেপ নিয়েছি আমরা। ইচ্ছা করেই একটি স্টেশন ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়ে রেখেছি যাতে উত্তরা, মিরপুরে থাকা বিভিন্ন শিক্ষকশিক্ষার্থী ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে পারে। প্রধানমন্ত্রীবলেন, এ মেট্রোরেল আধুনিক প্রযুক্তিতে করা হয়। এটা চলে আকাশ পথে। যেখানেযেখানে এর সাউন্ড প্রুফ দরকার তা করা হবে। কিন্তু  দেখছি, এর বিরুদ্ধে হঠাৎকিছু ছাত্র-শিক্ষক আন্দোলনে নেমে গেছে। গ্রাম এলাকায় একটা কথা আছে, যারজন্য করি চুরি, সেই বলে চোর। হঠাৎ এ আন্দোলন কিসের জন্য? আসলে এ দেশে একশ্রেণির মানুষ আছে, যাই করতে যাবেন তারা সবকিছুতে কিন্তুখুঁজে আন্দোলনেনামে। জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা দখল উচ্চ আদালতের রায়ে অবৈধ হয়ে গেছে- এমনমন্তব্য করে তিনি বলেন, হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, জিয়ার ক্ষমতা দখল ছিলসম্পূর্ণ অবৈধ- তাই তার সব কর্মকা-ই ছিল অবৈধ। তার দল বিএনপি গঠনও অবৈধ। বাংলাদেশেযখনই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করা হয়েছে, তখনই একটি মহল বিভিন্ন কায়দায়ওই বিচার বানচালের সব ধরনের চেষ্টায় ব্যস্ত- এ বলে প্রশ্ন রাখেন শেখহাসিনা। বলেন, বিশ্বের কোনো দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়নি, এমন দেশ খোঁজেপাওয়া যাবে না। তবে আমাদের দেশের কিছু কিছু রাজনৈতিক নেতা আছেন যারাযুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিপক্ষে কথা বলেন। বিগত জাতীয় নির্বাচনে ভোটারের উপস্থিতি নিয়ে খালেদা জিয়ার বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনিবলেন, আজ খালেদা জিয়া ভোট নিয়ে কথা বলেন। তার স্বামী তো হ্যাঁ-না ভোটকরেছিল, সেখানে ১১০ শতাংশ ভোট পড়েছিল, আর না ভোট তো ছিলই না। ওনার ১৫  ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তো ভোটারই ছিল না। পরে জনগণের প্রতিরোধের মুখে তিনিক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা আরো বলেন, ২০১৪সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বন্ধ করতে খালেদা জিয়া যেভাবে মানুষ পুড়িয়েহত্যা করেছিল, জ্বালাও-পোড়াও করেছিল, তা সত্ত্বেও  সেই নির্বাচনে ৪৩ শতাংশভোট পড়েছিল। সম্প্রতি যে পৌরসভা নির্বাচন হয়ে গেল  সেখানেই প্রমাণ হয়েছেতাদের জ্বালাও পোড়াওয়ের রাজনীতি মানুষ গ্রহণ করেনি। বিএনপি চেয়ারপার্সনখালেদা জিয়ার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তান যে সুরে কথা বলেতিনিও সে সুরে কথা বলেন। ৩০ লাখ শহীদকে কটাক্ষ করে তিনি বললেন, এত মানুষ তোমারা যায়নি। শেখ হাসিনা বলেন, ‘খালেদা জিয়ার দিল মে হে পেয়ারে পাকিস্তান’, তিনি পাকিস্তানকে ভুলতে পারেন না। তাই পাকিস্তানি দোসররা যে সুরে কথাবলেন, তিনিও সেই সুরে কথা বলেন।বিগত ওয়ান ইলেভেনের কথা মনে করিয়ে দিয়েপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপির অপকর্মের কারণেই ওয়ান ইলেভেনহয়েছিল।
আওয়ামী লীগের আয়োজনে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আলোচনাসভায় বক্তব্য রখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দআশরাফুল ইসলাম। তিনি বলেন, দেশের জন্য শেখ হাসিনার আরো কয়েক টার্মপ্রধানমন্ত্রী থাকা প্রয়োজন। এ প্রয়োজন শেখ হাসিনার জন্য নয়, বাংলাদেশেরআপামর জনগণের জন্য। সৈয়দ আশরাফ বলেন, আজকে বাংলাদেশ অগ্রগামী দেশগুলোরমধ্যে অন্যতম। পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি এমন কোনো সেক্টর নেই যেখানেবাংলাদেশ এগিয়ে যায়নি। এই অগ্রযাত্রা রাখতে হলে শেখ হাসিনাকে প্রয়োজনরয়েছে। সেজন্য আওয়ামী লীগ ও আপামর জনগণের কাছে আহ্বান জননেত্রীরঅগ্রযাত্রায় শামিল হোন।
বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাতের জন্য আওয়ামীলীগের আলোচনা সভা একদিন পেছানোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পাকিস্তানিরাবলত, বঙ্গবন্ধু হিন্দুর বাচ্চা। আওয়ামী লীগ যারা করে সব হিন্দু। ক্রমাগতআওয়ামী লীগের উপর এই কালিমা লেপনের জন্য দীর্ঘদিন চেষ্টা করা হয়েছে।বঙ্গবন্ধুকে কেউ দমাতে পারেনি। শেখ হাসিনাকেও দমাতে পারবে না। সারাবিশ্বদেখছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, সর্বোচ্চ কাতারে।বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। আরো বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেনআমু, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, এম এ আজিজ, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, মাহবুবউল আলমহানিফ, ডা. দীপু মনি, দুই মেয়র আনিসুল হক ও সাঈদ খোকন প্রমুখ। মুক্তিযুদ্ধেবিজয়ের ২৪ দিন পর পাকিস্তানে বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে ১৯৭২ সালের ১০জানুয়ারি দেশে ফিরেছিলেন বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখমুজিবুর রহমান। দিবসটি উপলক্ষে আগের দিন রোববার ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুরপ্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়। তবে বিশ্বইজতেমার আখেরি মোনাজাত থাকায় সমাবেশ হয় গতকাল সোমবার। দুপুর আড়াইটায় বড় চারধর্মীয়গ্রন্থ পাঠের মধ্য দিয়ে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে দুপুর ১২টারপর থেকেই নেতাকর্মীরা দলে দলে জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেন। ইঞ্জিনিয়ার্সইনস্টিটিউশনের পাশ ঘেষে তৈরি মঞ্চটি ছিল দক্ষিণমুখী। নেতাকর্মীদের প্রবেশেরজন্য টিএসসি সংলগ্ন গেট, রমনা কালীমন্দির সংলগ্ন গেট ও ভিআইপিদের জন্যশিখা অনির্বাণ সংলগ্ন গেটটি উন্মুক্ত ছিল। ব্যানার-ফেস্টুন হাতে নিয়েমিছিল সহকারে দলে দলে জনসভায় উপস্থিত হন নেতাকর্মীরা। জনসভা শুরুর আগেইপুরো আলোচনা সভার স্থান লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। আলোচনা সভা রূপ নেয় জনসভায়।এ উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানজুড়ে এবং এর আশপাশ এলাকায় কয়েক স্তরেরনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। মৎস্য ভবন থেকে শাহবাগ পর্যন্ত রাস্তায় গাড়িডাইভারশন করে। ফলে নগরীতে যানজটে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। বিকেল ৩টা ২০মিনিটের দিকে সভার সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঞ্চে উপস্থিত হন। সাড়ে৪টার দিকে তিনি বক্তৃতা শুরু করেন।

সংবাদ শিরোনাম