ব্রেকিং নিউজঃ
 
Tue, 21 Nov, 2017

 

 

 

 

     
 

আজ নির্মলেন্দু গুণের ৭০তম জন্মদিন

বাংলাদেশ বার্তা ২৪.কম/ সাহিত্য/ ২২ জুন/ আজবাংলাদেশের প্রথিতযশা কবি নির্মলেন্দু গুণের ৭০তম জন্মদিন। বাংলাদেশেরসমকালীন জনপ্রিয় কবিদের মধ্যে অন্যতম নির্মলেন্দু গুণ। এ ছাড়া সাহিত্যেরঅন্যান্য শাখায় রয়েছে তার সফল বিচরণ। নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালের এ দিনে (২১ জুন) নেত্রকোণার বারহাট্টায় জন্মগ্রহণ করেন।

নির্মলেন্দু গুণ১৯৬২ সালে বারহাট্টার করোনেশন কৃষ্ণপ্রসাদ ইনস্টিটিউট থেকে দুই বিষয়েলেটারসহ মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে পাস করেন৷ উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তিহন ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজে৷ মাধ্যমিকে ভাল রেজাল্টের সুবাদেরেসিডেন্সিয়াল স্কলারশিপ পান৷ ১৯৬৪ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ঢাকাবোর্ডের ১১৯ জন প্রথম বিভাগ অর্জনকারীর মাঝে তিনিই একমাত্র নেত্রকোণাজেলার। ভাল ফলাফলের জন্য ফার্স্ট গ্রেড স্কলারশিপ পেয়েছিলেন৷ তাকে প্রতিমাসে ৪৫ টাকা ও বছর শেষে আরও ২৫০ টাকা দেওয়া হতো৷ এরপর সুযোগ পানঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগে৷ কিন্তু হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গারকারণে ফিরে আসেন গ্রামে৷ ১৯৬৫ সালে বুয়েটে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন৷কিন্তু ভর্তি হতে পারেননি। ১৯৬৯ সালে প্রাইভেটে বিএ পাস করেন। পরে ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে ভর্তি হন৷ মাধ্যমিক পরীক্ষার আগেনেত্রকোণার উত্তর আকাশপত্রিকায় প্রকাশিত হয় নির্মলেন্দু গুণের প্রথমকবিতা নতুন কাণ্ডারী৷ ১৯৬৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সাপ্তাহিক জনতাপত্রিকায় প্রকাশিত হয় কোনো এক সংগ্রামীর দৃষ্টিতে৷ সম্পাদনা করেন সূর্যফসলনামের সংকলন৷ কবি সিকান্দার আবু জাফর এতে আশির্বাণী লিখে দেন৷ সংলনেরবিভিন্ন কবিতায় ফুটে উঠে শাসকশ্রেণীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ। ফলস্বরূপ মামলা হয়এবং জারি হয় গ্রেফতারি পরোয়ানা৷ পরে প্রভাবশালী মুসলিম লীগ নেতা খুরশেদচৌধুরী ও মাওলানা ফজলুর রহমান সাহেবের মধ্যস্থতায় মামলা প্রত্যাহার করাহয়৷ এরপর তাকে আসামি করে ডাকাতির মামলা করা হয়। তিনি বেছে নেন পলাতকজীবন। কখনও গৌরীপুর, শ্যামপুর, কখনও জারিয়া-ঝাঞ্ছাইলে আত্মগোপনে থেকেছেন৷এক সময় চলে আসেন ঢাকায়৷ থাকতে শুরু করেন নাট্যকার বন্ধু মামুনুর রশীদেরসঙ্গে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের হোস্টেলে৷ কাজ করেন আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদেরকণ্ঠস্বরপত্রিকায়৷ এক সময় তুলে নেওয়া হয় মামলা৷ ৬ দফা আন্দোলনচলাকালে সংবাদপত্রিকায় ছাপা হয় শেখ মুজিবুর রহমানকে উৎসর্গিতনির্মলেন্দু গুণের কবিতা প্রচ্ছদের জন্য৷ ঢাকা শহরে তার নির্দিষ্ট কোনোঠিকানা ছিল না৷ কবিতা লিখতেন, ঘুরে বেড়াতেন, আড্ডা দিতেন ও বইয়ের প্রুফদেখতেন৷ ১৯৬৮ সালের ২৯ জুলাই হোটেল পূর্বাণীতে তরুণ কবিদের কবিতা পাঠেরআসরে সুযোগ পান৷ পত্রিকা ও টেলিভিশনের মাধ্যমে বেশ প্রচার পায় এ আসর৷ নির্মলেন্দুগুণ ১৯৬৯ সালে রেডিওতে কবিতা পাঠের আসরে ডাক পান। তখন সংবাদপত্র ওসাময়িকীতে নিয়মিত কবিতা প্রকাশ হতে থাকে৷ ১৯৭০ সালের ২১ জুলাই তরুণ কবিদেরকবিতা পাঠের আসরে আবৃত্তি করেন বিখ্যাত কবিতা হুলিয়া৷ সমালোচনা লিখেনআব্দুল গাফফার চৌধুরী তৃতীয় মতকলামে৷ শক্তি চট্টোপাধ্যায় পূর্ব বাংলারশ্রেষ্ঠ কবিতাগ্রন্থে স্থান পায় কবিতাটি৷ ওই বছরই খান ব্রাদার্স বের করেপ্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রেমাংশুর রক্ত চাই৷ স্বাধীনতার আগে চাকরিকরেছেন কণ্ঠস্বর’, ‘নাগরিক’, ‘পরিক্রম’, ‘জোনাকীও ইংরেজী পত্রিকাপিপল্’-এ। স্বাধীনতার পর সহকারী সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন গণকণ্ঠপত্রিকায়৷ আরও কাজ করেন সংবাদ’, ‘দৈনিক বাংলার বাণী’, ‘বাংলাবাজারদৈনিক আজকের আওয়াজপত্রিকায়। নির্মলেন্দু গুণের প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে কাব্যগ্রন্থ প্রেমাংশুররক্ত চাই’ (১৯৭০), ‘না প্রেমিক না বিপ্লবী’ (১৯৭২), ‘দীর্ঘ দিবস দীর্ঘরজনী’ (১৯৭৪), ‘চৈত্রের ভালোবাসা’ (১৯৭৫), ‘ও বন্ধু আমার’ (১৯৭৫), ‘আনন্দকুসুম’ (১৯৭৬), ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’ (১৯৭৮), ‘তার আগে চাই সমাজতন্ত্র’ (১৯৭৯), ‘চাষাভুষার কাব্য’ (১৯৮১), ‘অচল পদাবলী’ (১৯৮২), ‘পৃথিবীজোড়া গান’ (১৯৮২), ‘দূর হ দুঃশাসন’ (১৯৮৩), ‘নির্বাচিতা’ (১৯৮৩), ‘শান্তির ডিক্রি’ (১৯৮৪), ‘ইসক্রা’ (১৯৮৪), ‘নেই কেন সেই পাখি’ (১৯৮৫), ‘যখন আমি বুকের পাঁজরখুলে দাঁড়াই’ (১৯৮৯), ‘ধাবমান হরিণের দ্যুতি’ (১৯৯২), ‘আনন্দ উদ্যান’ (১৯৯৫), ‘ইয়াহিয়াকাল’ (১৯৯৮), ‘আমি সময়কে জন্মাতে দেখেছি’ (২০০০) এবংবাৎস্যায়ন’ (২০০০)। গল্পগ্রন্থ : আপন দলের মানুষ’, ছড়া : সোনার কুঠার’ (১৯৮৭), আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ : আমার ছেলেবেলা’, ‘আমার কণ্ঠস্বরএবংআত্মকথা ১৯৭১’ (২০০৮) এবং অনুবাদ : রক্ত আর ফুলগুলি’ (১৯৮৩)। তারহুলিয়াকবিতা অবলম্বনে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন তানভীরমোকাম্মেল এবং নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণঅবলম্বনে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রনির্মাণ করেছেন মাসুদ পথিক। নির্মলেন্দু গুণ অনেক পুরস্কার ওসম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- বাংলা একাডেমি পদক (১৯৮২) ও একুশে পদক (২০০১)।

সংবাদ শিরোনাম