ব্রেকিং নিউজঃ
 
Thu, 18 Jan, 2018

 

 

 

 

     
 

পুলিশ বাহিনীর ট্রেনিং ও কারিকুলামে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার আদর্শ অন্তর্ভুক্তির কোনো বিকল্প নেই

বাংলাদেশ বার্তা ২৪.কম/ ধর্ম/ ২৫ আগস্ট/ অসঙ্গতিমূলকএবং অবাঞ্ছিত হলেও বাস্তবতার নিরিখে পুলিশে বেপরোয়াভাবে অপরাধমূলক তৎপরতাবেড়ে যাওয়ার বিষয়ে কোনো মতবিরোধ নেই। ডাকাতি, ছিনতাই, অপহরণ, গুম-হত্যা, সম্ভ্রমহরণ, মাদক চোরাচালান, স্বর্ণ চোরাচালান, চাঁদাবাজিসহ মারাত্মক সবঅপরাধের সাথে পুলিশ

সদস্যদের জড়িয়ে পড়ার ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। পত্রিকায়প্রকাশিত রিপোর্ট থেকে জানা যায়, বিভিন্ন ধরনের অপরাধের দায়ে বছরে হাজারহাজার পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পরও অপরাধীপুলিশের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারেগণমাধ্যমে প্রকাশিত এক রিপোর্ট থেকে জানা যায়, ২০১৩ সালে বিভিন্ন অভিযোগে১৩৫০০ পুলিশের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। ২০১৪ সালে ১৮হাজার পুলিশ সদস্যের (বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কনস্টেবল) বিরুদ্ধে নানাধরনের অপরাধের অভিযোগ পুলিশ হেডকোয়ার্টারে যায় এবং ১৪ হাজার ৫শজনেরবিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। অর্থাৎ হাজার হাজার পুলিশসদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পরও পুলিশেরঅপরাধপ্রবণতা বেড়ে চলেছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, পুলিশের অপরাধের ফিরিস্তিদেশবাসীর জন্য চরম হতাশা ও গভীর উদ্বেগের বিষয়। পুলিশের একশ্রেণীরকর্মকর্তার দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও বেপরোয়া অপরাধ প্রবণতার কারণেসাধারণ মানুষ পুরো পুলিশ বাহিনীর প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। ২০১৫সালের ১০ আগস্ট পর্যন্ত পুলিশের বেআইনি কাজগুলো সংকলিত হয়েছে। এই কয় মাসেএমন কোনো অপরাধ নেই, যা পুলিশ করেনি। প্রাপ্ত তথ্যমতে জানা যায়, গত ১৪মে-২০১৫ এক খবরে প্রকাশ হয়, এক বছরে পুলিশের বিরুদ্ধে ৪০ নারী নির্যাতনেরঅভিযোগ উঠেছে। গত ২১ জুন-২০১৫ ফেনী থেকে ৭লাখ ইয়াবাসহ পুলিশের এএসআই মাহফুজুর রহমানকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। গত ১জুলাই-২০১৫ খবরে প্রকাশিত হয়- বরিশালে ঘুষ তহবিল’-এর কেলেঙ্কারিতে ১১পুলিশ বরখাস্ত। প্রমোশনের জন্য উচ্চ পদস্থদের ঘুষ দিতে সিন্ডিকেট বানিয়েটাকা তুলে তহবিল গড়েছিল একদল পুলিশ। গত ৮ আগস্ট-২০১৫ প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়- মানবপাচার দ্বারা কক্সবাজারের সব পুলিশ আর্থিকভাবে লাভবান। ইয়াবা ব্যবসায় ১২ পুলিশ জড়িত। গত ২২ আগস্ট-২০১৫ দৈনিক পত্রিকায় লিড নিউজ হয়েছে- মাদক ব্যবসায় জড়ানোয় রাজশাহীর ৩৭ পুলিশ বদলিসংবাদ সূত্রে জানা গেছে, বদলি হওয়া ৩৭ জন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবস্যায় জড়ানোসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগ উঠেছে। প্রসঙ্গতআমরা মনে করি- পুলিশের অপরাধ প্রবণতার জন্য বিশেষভাবে দায়ী পুলিশ বাহিনীতেনিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতি, অস্বচ্ছতা, দলবাজি ও স্বজনপ্রীতি। পুলিশেনিয়োগ পদন্নোতি, বদলি, পদায়নসহ সব ক্ষেত্রেই লাখ লাখ টাকার ঘুষবাণিজ্য, রাজনৈতিক দলবাজি ও বিশেষ অঞ্চলের প্রাধান্য রক্ষিত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।শিক্ষাগত যোগ্যতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতার বদলে দুর্নীতিমূলক প্রক্রিয়ায় ও মোটাঅঙ্কের টাকার বিনিময়ে অথবা রাজনৈতিক আনুগত্যের বিবেচনায় নিয়োগ ও পদোন্নতিপাওয়া ব্যক্তিরাই গুরুতর অপরাধের সাথে বেশি জড়িয়ে পড়ছে। অপরাধ দমন ওআইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশকে ম্যানেজ করে পেশাদার অপরাধীরাআরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে। নিরীহ মানুষকেধরে গ্রেপ্তার ও ক্রসফায়ারে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় এখন নিত্যনৈমত্তিক ব্যাপারহয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করা হচ্ছে যত্রতত্র। বিশেষ করে রাজনৈতিকবলয়ে থাকা পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাল্লা বেশি ভারি। এসবসদস্যের চেইন অব কমান্ড ভাঙার প্রবণতাও বেশি। পর্যবেক্ষক মহল বলছে, পুলিশেরঅপরাধের তদন্ত বা অনুসন্ধান পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমেই পরিচালিত হয়।অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহানুভূতি লাভ করে। এ কারণেঅনেক ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নানিয়ে লঘু দ- দেয়া হয়। আর অন্য বাহিনী দিয়ে তদন্ত করালে পুলিশ তাদের তদন্তেসহযোগিতা করে না। উল্লেখ্য, সম্মানিতদ্বীন ইসলাম উনার আদর্শ ধার নিয়ে বিভিন্ন দেশে পুলিশ জনগণের বন্ধু, কখনোসেবক হিসেবে কাজ করছে। জনগণ পুলিশকে বন্ধু মনে করে, কোনো সমস্যা হলেসাহায্যের জন্য এগিয়ে যায়। পুলিশও তাদের সাধ্য অনুযায়ী উপকার/সহায়তা করতেচেষ্টা করে। অথচ বাংলাদেশের পুলিশ আরবিভিন্ন দেশের পুলিশের মধ্যে রাত আর দিন পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। আমাদেরদেশে একটা কথা চালু আছে- বাঘে ধরলে এক ঘা, আর পুলিশে ধরলে আঠারো ঘা।বর্তমানে অধিকাংশ পুলিশের কাছ থেকে আমরা এরূপ আচরণই পাচ্ছি। পুলিশের এধরনের চরিত্র দেশের জনগণের কাম্য নয়। জনগণ চায় এমন পুলিশ যারা জনগণেরজান-মাল রক্ষার কিন্তু এ ধরনের চরিত্র আমরা পুলিশের নিকট থেকে পাচ্ছি নাকেন? কোথায় গলদ রয়েছে তা খতিয়ে দেখতে হবে। কারণ খুঁজে বের করে পুলিশকেজনগণের বন্ধু হিসেবে তৈরি করতে হবে। উন্নতদেশে পুলিশে নিয়োগ পাওয়া খুব কঠিন বিষয়। পুলিশ সদস্য নিয়োগ দিতে শুধু ওইপুলিশ সদস্যের স¦ভাব চরিত্রই দেখা হয় না, তার পূর্বপুরুষের খোঁজ পর্যন্তনেয়া হয়। তার বাবা-দাদা, নানার বংশে কে কি ছিল? কেমন ছিল? তাদের স¦ভাব কিধরনের ছিল? ইত্যাদি ইত্যাদি খোঁজ-খবর নেয়া হয়। পূর্বপুরুষের কারো স¦ভাবেখারাপ কোনো রিপোর্ট থাকলে তাকে আর পুলিশে নিয়োগ দেয়া হয় না। কিন্তু আমাদেরদেশে টাকার বিনিময়ে চোর-ডাকাতকেও পুলিশে নিয়োগ দেয়া হয়। পূর্বপুরুষেরচরিত্র দেখা তো দূরের কথা- ওই পুলিশ সদস্যের স¦ভাব চরিত্রের খবরটাই নেয়া হয়না। রাজনৈতিক বিবেচনায় ও টাকার বিনিময়ে আমাদের দেশের পুলিশ সদস্যরা নিয়োগপায়। তাই পুলিশ ঘুষখোর, দুর্নীতিবাজ, রাজনীতিবাজ, সম্ভ্রমহরণকারী, লুণ্ঠনকারী হওয়াটাই তো স্বাভাবিক। এই যদি হয় পুলিশ সদস্যদের নিয়োগ পদ্ধতি, তাহলে এদের কাছ থেকে তো আর আমরা ভালো কিছু আশা করতে পারি না। পাশাপাশিউল্লেখ্য, নতুন সদস্যদের প্রশিক্ষণ ও অরিয়েন্টেশন এমনভাবে হওয়া উচিত- যাতেমানবিক, সততা, দায়িত্বপরায়ণতা ও নৈতিক গুণাবলীর যথাযথ বিকাশ ঘটে। বলাবাহুল্য, সত্যিকার নৈতিক গুণাবলীর উন্মেষ ঘটাতে হলে পুলিশ বাহিনীর ট্রেনিং ওকারিকুলামে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার আদর্শ অন্তর্ভুক্তির কোনো বিকল্প নেই।

সংবাদ শিরোনাম