ব্রেকিং নিউজঃ
 
Thu, 18 Jan, 2018

 

 

 

 

     
 

বিদায় মাহে রমজান

বাংলাদেশ বার্তা ২৪.কম/ ধর্ম/ ১১ জুলাই/ আজ ২৩ রমজান। নাজাতের দশকের তৃতীয় দিন। পবিত্র রমজানের পরিপূর্ণ শিক্ষাগুলোর অন্যতম হলো আল্লাহতে আত্মসমর্পণ ও আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখার শিক্ষা। তাই সিয়াম সাধনার মাধ্যমে আল্লাহ ও তার রাসুল (সা.) এর নির্দেশিত পথ পরিপূর্ণরূপে অনুকরণ, অনুসরণ ও অনুশীলনের মধ্যে রয়েছে মানুষের প্রকৃত মুক্তি।

যাবতীয় কল্যাণ, যাবতীয় সংযম, যাবতীয় শান্তি ও ইহ-পরকালে মুক্তির মাস এই রমজান। রমজানের সাধনা তাই মনুষ্যত্বের সাধনা, ইহ-পরকালে মুক্তির সাধনা। ইহকাল যেহেতু পরকালের শস্যক্ষেত্র তাই পরকাল ও ইহকালের সমস্ত সঞ্চয় এই পার্থিব জগতেই করতে হবে। তাই পার্থিব জীবনে এবং ব্যক্তিগতভাবে সংসার ও সমাজ জীবনেও রয়েছে পবিত্র কোরান হাদিসের সুস্পষ্ট নির্দেশ। এ পার্থিব জগতে সংসার ও সমাজ জীবনে আল্লাহর বান্দার প্রতি তাই সুস্পষ্ট ভাষায় উক্ত হয়েছে: পিতা-মাতা, আত্মীয়স্বজন, পিতৃহীন, অভাবগ্রস্ত, নিকট প্রতিবেশী, সঙ্গী-সাথী, পথচারী এবং তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসীদের প্রতি সদব্যবহার করবে। সূরা নিসা-৩৬। পবিত্র ইসলাম বৈষম্যের ধর্ম নয়, ইসলাম ধর্ম কৃত্রিম অনুষ্ঠান ও আচারসর্বস্ব ধর্ম নয়। ইসলাম শুধু জগতের একপিঠ দেখে না, অপর পিঠও দেখে। ইসলাম শুধু আলো দেখে না, অন্ধকারও দেখে। আলো অন্ধকার প্রতীকী অর্থে তা অন্ধকার। আলোর পথ শান্তির পথ, অন্ধকার পথ অশান্ত ও বন্ধুর পথ। আলোর পথ আল্লাহ ও রসুলের পথ, অন্ধকার পথ শয়তান ও বাতিলের পথ। ইসলাম অন্ধকার পরিহার করে আলোর পথে চলার বিধান দেয়। আলোর পথই প্রকৃত শান্তি ও কল্যাণের পথ। তাই ইহ ও পরকালের যাবতীয় শান্তি ও কল্যাণের স্বার্থেই তার যাবতীয় তাকিদ। ইংরেজিতে একটি কথা আছে, ঈযধৎরঃু নবমরহং ধঃ যড়সব অর্থাৎ বদান্যতা গৃহেই শুরু হয়। শুধু বদান্যতা নয়, যাবতীয় সুকৃতির সূতিকাগার হলো গৃহ। তাই গৃহ থেকে যারা সুশিক্ষা লাভ করে জগতের সার্বিক কল্যাণে তারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। সে জন্য এক কথায়, ধার্মিক ও চরিত্রবান মাতা-পিতাই সন্তানের সর্বশ্রেষ্ঠ জনক-জননী হতে পারে। আর এদের সন্তান-সন্তুতিরাই জগতের শ্রেষ্ঠতম কর্মগুলোর আনজাম দিয়ে থাকে। মানবজাতি ও মানব সভ্যতার ধারাবাহিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলেও এ সত্য স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়ে ওঠে। প্রসঙ্গত, আত্মীয়-স্বজনের হক বিষয়ে পৃথক একটি অধ্যায় রচনা করা সম্ভব। এ বিষয়ে মুমিনের জীবনে এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, তা বাদ দিয়ে পবিত্র সুন্দর সমাজ ও মানবজীবন কল্পনা করা সম্ভব নয়। বুখারি শরিফে হজরত আবু হুরাইরাহ (রা.)’র উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণিত হয়েছে ‘রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহতায়ালা যখন সমস্ত মানুষের রুহ সৃষ্টির কাজ সুসম্পন্ন করলেন, তখন আত্মীয়তার বন্ধন আকৃতি ধারণ করে আল্লাহতায়ালার দরবারে দাঁড়াল এবং বলল, ‘মানুষ আমাকে ছেদন করবে, এ থেকে বাঁচার জন্য আমি রক্ষাকবচ প্রার্থনা করছি।’ তখন আল্লাহতায়ালা বললেন, ‘তুমি কি আমার এ ঘোষণায় সন্তুষ্ট হবে যে, যে ব্যক্তি তোমায় বজায় রাখবে তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক বজায় থাকবে। আর যে ব্যক্তি তোমাকে ছেদন করবে তার সঙ্গে আমি আমার সম্পর্ক ছেদন করব।’ সে বলল, ‘হে আমার পালনকর্তা, এমন ঘোষণা হলে নিশ্চয় আমি সন্তুষ্ট আছি।’ আল্লাহতায়ালা বললেন, ‘তোমার জন্য এ ঘোষণা আমি বলবৎ করে দিলাম।’ পবিত্র কোরান ও হাদিসের উদ্ধৃতি থেকে এ সত্য এখানে স্পষ্ট যে, আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখা ইসলামের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।

সংবাদ শিরোনাম