ব্রেকিং নিউজঃ
 
Thu, 23 Nov, 2017

 

 

 

 

     
 

পাখি রক্ষায় দৃষ্টি কেড়েছে সবার

বাংলাদেশ বার্তা ২৪.কম/ সাইফুল ইসলাম পলাশ/নীলফামারী/ ১০ জানুয়ারি/ এসো পাখির বন্ধু হই, সুন্দর এ পৃথিবীকে বাঁচাইএই শ্লোগানে সেতু বন্ধনের উদ্যোগে কয়েকজন যুবকের শুরু হয়েছে পাখি রক্ষার অভিযান। মুখ মোটা কলসিগুলো

সরু মুখ দিয়ে উঁকি দিচ্ছে রং বেরঙের পাখি, সড়কের পাশে, গাছে, সাইনবোর্ডে লেখা আছে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এবার এগিয়ে এসেছে সৈয়দপুর উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়ন কতিপয় সচেতন যুবক। তারা নিজের টাকা খরচ করে এলাকার কয়েক হাজার গাছে তৈরি করেছে পাখিদের বাসা। যাতে পাখিরা অভয়াশ্রম গড়ে ওঠে। পরিবেশের ভারসাম্য ও কৃষিতে লোকসানের হাত থেকে বাঁচাতে তাদের ওই কর্মকান্ড অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, খিয়ারজুম্মা হইতে খাতামধুপুর ইউনিয়নের খালিশা বেলপুকুর ও উপজেলার ফাইলেরিয়া হাসপাতাল, প্রানী সম্পদ হাসপাতাল, খাদ্য গুদাম (সংরক্ষিত এলাকা), কয়ানিজ পাড়া, মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়, থানা চত্বর, খানকা শরীফ এবং পুরো উপজেলা চত্তরে প্রায় প্রতিটি গাছে বেঁধে দেওয়া হয়েছে মাটির কলস। যাতে রয়েছে বাসা তৈরির অন্যান্য উপকরণ।

খবর নিয়ে জানা গেছে, ওই এলাকার উদ্যোমী যুবক আলমগীর হোসেন ও বন্ধুদের নিয়ে পাখি নিধন রোধে এবং পাখিদের অভয়াশ্রম গড়ে তোলার জন্য কর্মকান্ড চালু করেন ২০১৪ সালে। তিনি বলেন, পাখিরা না থাকলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাবে না। তাছাড়া কৃষিতে পাখিদের ভূমিকা অপরিসীম। তারা ক্ষতিকর পোকা-মাকড় খেয়ে কৃষি চাষাবাদে ভূমিকা রাখছে। আলমগীর হোসেন জানান, তার বন্ধু রফিকুল ইসলাম, রাশেদুর জ্জামান রিফাত, রাফি, সিরাজুল, টুইংকেল সহ আরো অনেকে তাকে এ কাজে সহযোগিতা করেন। এসো পাখির বন্ধু হই, সুন্দর এ পৃথিবীকে বাঁচাই- এই শ্লোগানকে সামনে রেখে সৈয়দপুরের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেতু বন্ধনসৈয়দপুর উপজেলাসহ প্রত্যন্ত গ্রামে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হোমায়রা মন্ডলের সহযোগীতায় উপজেলার বিভিন্ন মাঠ স্কুলে পাখির র্নিধন ও পাখির বংশ বৃদ্ধি সচেতনা সৃষ্ট সম্পর্কে ও পাখি বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করার প্রচেষ্টা সম্পর্কে বিভিন্ন মহলে আলোচনা করেন। এদিকে, সেতু বন্ধনের উদ্যেগে পাখি রক্ষায় গৃহিত কর্মকান্ড দেখতে তার এলাকাগুলো আলোপথ সমাজ উন্নয়ন সংস্থা, স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, সাংবাদিক সহ পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিবর্গ এলাকা পরিদর্শন করে অভিভূত হয়েছেন।

উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জুয়েল চৌধুরী বলেন, ওরা পাখি রক্ষার সংগ্রাম করে চলেছে। প্রকৃতির জন্য এধরণের উদ্যোগ ভলো। তাদের কাজের সহযোগিতা ও গাছে বেঁধে দেয়া কলস চুরির হাত থেকে বাঁচাতে এলাকার লোকজনকে সচেতন করা হচ্ছে। এই বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হোমায়রা মন্ডল জানান, এটি খুব ভালো ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। তাদের এবং সকলের সহযোগিতায় পরিবেশ ও খাদ্য উৎপাদনে এই উদ্যোগ ভালো সুফল বয়ে আনবে বলে জানান তিনি।

যুবকদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছে সকলের। এলাকায় এসব যুবক পাখি প্রেমিক হিসেবে পরিচিত। পাখিরা মানুষের জন্য কতটা উপকারী তা এলাকার মানুষকে বোঝান, নিয়মিত বৈঠক করেন। তাদের মিলিত প্রচেষ্টয় রক্ষা পাচ্ছে পাখির জীবন। শিশুরা বেড়ে উঠছে শালিক, ঘুঘু, পেঁচা, শ্যামাসহ নানা রঙের পাখির সাথে পরিচিত হয়ে আর কিচিমিচির ডাক শুনে।