ব্রেকিং নিউজঃ
 
Sun, 21 Jan, 2018

 

 

 

 

     
 

ভোলার ১৯০ কি.মি. এলাকায় ইলিশ শিকারে ১১ দিনের নিষেধাজ্ঞা

বাংলাদেশ বার্তা ২৪.কম/ ভোলা/ ২ অক্টোবর/ জেলার ১শ৯০ কিলোমিটার এলাকায় সব ধরনের ইলিশশিকার বন্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় ৫থেকে ১৫ অক্টোবর এই ১১ দিন ইলিশ ধরা বন্ধের জন্য জেলেদের নির্দেশ প্রদানকরা হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রশাসনসহ সকলকে সজাগ থাকতে জেলা প্রশাসন থেকেনির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

জেলা মৎস কর্মকর্তা প্রীতিষ কুমার মল্লিকবৃহস্পতিবার দুপুরে এ তথ্য জানিয়েছেন। মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানাযায়, ভোলার ইলিশা থেকে পটুয়াখালীর চর রুস্তম পর্যন্ত জলসীমায় ইলিশেরঅভয়আশ্রম ঘোষণা করা হয়। এ জলসীমায় সাগর থেকে মা ইলিশ এসে ডিম পাড়ে তাই এসময় ইলিশ ধরা বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। নিষিদ্ধ সময়ে কেউ যাতে ইলিশ ধরা, বিক্রি ও মজুদ করতে না পারে সে জন্য পুলিশ, কোস্ট গার্ড, মৎস্য বিভাগ ওভ্রাম্যমান আদালত নজরদারী করবে, কেউ আইন অমান্য করলে তার বিরুদ্ধেশাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে, এসময় শুধু মাত্র নদীতে ইলিশ শিকারবন্ধ করার কথা বলা হলেও সাগরে এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ না থাকায় জেলেট্রলারগুলো ১১ দিনের জন্য সাগর অভিমুখে যায় বলে জানা গেছে। ঢালচরমৎস অবতরণ কেন্দ্রের মৎস ব্যাবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুস সালাম হাওলাদারবলেন, সাগরে কোন প্রকার নিষেধাজ্ঞা না থাকায় জেলেরা নির্বিঘ্নেই ইলিশ শিকারকরতে পারে। সরকারি এই নিষেধাজ্ঞার সুফল সঠিকভাবে পৌঁছে দেয়ার জন্য একইসাথে সাগরে ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পক্ষে তিনি তার মতামত তুলে ধরেন। এব্যাপারে জেলা মৎস কর্মকর্তা প্রীতিষ কুমার মল্লিক জানান, সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে বড় পূর্ণিমার আগে ও পরের সময় ইলিশ মাছ সবচেয়ে বেশিপরিমাণে ডিম ছাড়ে। ডিম ছাড়া অব্যাহত থাকে অমাবস্যা পর্যন্ত। বিশ্বের অন্যতমইলিশ প্রজনন ক্ষেত্র হলো বাংলাদেশ। সফল প্রজননের লক্ষ্যে এসময় চট্টগ্রাম, ভোলা, পটুয়াখালি, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালি, ফেনী ও কঙবাজারের উপকূলীয় এলাকার১১ হাজার বর্গ কিলোমিটারসহ সারা দেশে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। এসময় ওই সব স্থানে গভীর সমুদ্র থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে মা ইলিশ আসে। ইলিশ অত্যন্তদ্রুতগামী সামুদ্রিক মাছ। এ মাছ সব সময় চিরচেনা পথ ধরেই চলে। একবার যেখানেডিম পাড়ার জন্য আসে, বার বার সেখানেই ফিরে আসে, এমনটি জাটকা মাছও (বাচ্চা)। তিনি আরো জানান, আইন অনুযায়ী প্রতি আশ্বিন মাসে প্রথমউদিত চাঁদের পূর্ণিমার দিনসহ আগের ৫ দিন ও পরের ৫ দিন উপকূলীয় এলাকাসহ সারাদেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহণ, বাজারজাতকরণ, বিক্রয় ও মজুদ দ-নীয় অপরাধ। আইনঅমান্যকারীকে কমপক্ষে ১ থেকে ৬ মাসের সশ্রম কারাদ-সহ সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকাজরিমানা করার বিধান রয়েছে। এর পর পরবর্তীতে প্রতিবার আইন ভঙ্গের জন্যশাস্তির পরিমাণ দ্বিগুণ রাখা হয়েছে। মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, এরইমধ্যেভোলার ৭টি উপজেলার বিভিন্ন মৎস্যঘাটে ব্যাপক মাইকিং, প্রচার-প্রচারণা, জেলে সমাবেশ এবং লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। এসব প্রচারণা করে মাছ শিকার নাকরার জন্য সচেতন করে তোলা হচ্ছে মৎস্যজীবীদের। এরপরেও আইন অমান্য করলেতাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, বিগতবছরগুলোতে শুধু নদীর বিশেষ বিশেষ পয়েন্টে মাছ শিকারের নিষেধাজ্ঞা জারিছিলো, কিন্তু এ বছরই সব পয়েন্টে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। মৎস্য ওপ্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এদিকে, যে মুহূর্তে নদীতে মাছ পড়া শুরু করেছে ঠিক সে মুহূর্তে মাছ ধরায়নিষেধাজ্ঞা জারি করায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন সাধারণ জেলেরা। তারা বলছেন, মৌসুমের শুরু থেকে নদী ও সাগরে পর্যাপ্ত ইলিশ ছিল না। কিছুদিন থেকে মাছ পড়াশুরু করেছে। কিন্তু সে মুহূর্তেই মাছ ধরা বন্ধ থাকবে।