ব্রেকিং নিউজঃ
 
Thu, 18 Jan, 2018

 

 

 

 

     
 

কীর্তনখোলা খনন, বন্ধ বাড়ছে নাব্য সঙ্কট

বাংলাদেশ বার্তা ২৪.কম/ বরিশাল/ ২৮ মার্চ/ মাত্র১০ দিনের মাথায় বন্ধ হয়ে গেছে কীর্তনখোলা নদীর বরিশাল নৌবন্দর এলাকার খননকাজ। এতে নাব্য সঙ্কট প্রকট আকার ধারণ করেছে। ঘাটে ভিড়তে জোয়ারের জন্যলঞ্চকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ড্রেজার বিভাগের দাবি, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেখনন বন্ধ রয়েছে। তবে লঞ্চ মালিক

সমিতির অভিযোগ, খনন শুরু হলেই টালবাহানাকরে ড্রেজার বিভাগ। মূলত জ্বালানি তেল আত্মসাতের জন্যই এ ফন্দি অাঁটেদুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা। জানা গেছে, বিআইডবিস্নউটিএ'র নবনিযুক্তচেয়ারম্যান কমডোর এম মোজাম্মেল হক ৭ মার্চ বরিশাল সফর করেন। তিনি নৌবন্দরটার্মিনাল এলাকাসহ কীর্তনখোলায় নাব্য সঙ্কটে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনিতাৎক্ষণিক ড্রেজিং বিভাগকে খননের নির্দেশ দেন। ১০ মার্চ কীর্তনখোলা খননশুরু করা হয়। নৌবন্দর এলাকাসহ কীর্তনখোলা নদীর প্রায় দেড় লাখ কিউবিক মিটারমাটি কাটার সিদ্ধান্ত হয়; কিন্তু ১৯ মার্চ পর্যন্ত মাত্র ১০ হাজার কিউবিকমিটার মাটি কেটে কাজ বন্ধ রাখা হয়। নৌবন্দরের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, খননের নামে ড্রেজিং বিভাগ প্রতিবারই কারসাজি করে। বিশেষ করে যে পরিমাণ মাটিকাটার কথা, তার কম খনন করে জ্বালানি আত্মসাৎ করা হয়। বরিশাল নৌবন্দরকর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তিনি দ্রুত কাজ শুরু করার জন্য তাগিদদিয়েছেন।ড্রেজিং বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী নজিবুল হক জানান, ড্রেজার ডেল্টা-১ বিকল হয়ে গেছে। সেটি ঢাকায় মেরামত চলছে। বন্দর এলাকায় ৯০হাজার কিউবিক মিটার মাটি খননের কথা ছিল। কীর্তনখোলার অন্য স্থানে খননেরটার্গেট দেড় লাখ কিউবিক মিটার মাটি। তিনি বলেন, ১ ঘণ্টা খননে ১৫০ থেকে ২০০লিটার তেল প্রয়োজন হয়। খননের নামে তেল আত্মসাৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটাঅন্য বিভাগ দেখভাল করে। ড্রেজার মেরামত হলে ফের কাজ শুরু হবে।এমভিসুপারসনিক লঞ্চের স্বত্বাধিকারী স্বপন খান বলেন, খনন সম্পন্ন না হওয়ায়লঞ্চ ঘাটে ভেড়ানো যাচ্ছে না। জোয়ারের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ এভাবে হুট করে কাজ বন্ধ রাখতে পারে না। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল ও যাত্রী পরিবহন সংস্থার সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, দ্রুতখনন শেষ না হলে মহাসমস্যা হবে। মেরামতের নামে ড্রেজিং বিভাগ সব সময়টালবাহানা করে। যে পরিমাণ মাটি খনন করার কথা থাকে, তারা সেটা করে না। তিনিবলেন, খনন মেজারমেন্ট করার সময় মালিক সমিতির প্রতিনিধি রাখার কথারেজ্যুলেশন আকারে উল্লেখ রয়েছে; কিন্তু কখনও তাদের ডাকা হয় না। ফলে খননেফাঁকফোকর থেকেই যায় বলে নৌ যান সমিতি নেতা রিন্টু দাবি করেন।নৌনিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের বরিশালের উপপরিচালক আবুল বাশারমজুমদার বলেন, নৌবন্দর সংলগ্ন কীর্তনখোলা খনন জরুরি। এ বিষয়ে সুপারিশও করাহয়েছে। তবে খনন মনিটরিংয়ের দায়িত্ব বন্দর কর্মকর্তার। খনন কেন বন্ধ হলো, তা তিনিই বলতে পারবেন। এ ব্যাপারে ড্রেজিং বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীমিজানুর রহমান বলেন, ড্রেজার সঙ্কটে নদী খনন করা যায়নি। নতুন করে ড্রেজিংশুরু হলেও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তা বন্ধ আছে। তিনি বলেন, কীর্তনখোলা নদীদেড় লাখ কিউবিক মিটার খননের টার্গেট দেয়া হয়েছে।তবে এ টার্গেট পূরণ করতেই হবে, এমন কথা নেই। নৌ যান মালিক সমিতি যা-ই বলুক না কেন, প্রয়োজন অনুযায়ী খনন করা হবে।

সংবাদ শিরোনাম