ব্রেকিং নিউজঃ
 
Sun, 21 Jan, 2018

 

 

 

 

     
 

বোমা কারিগর কানা সেলিম!

বাংলাদেশ বার্তা ২৪.কম/ নোয়াখালী/ ১৮ মার্চ/ মোহাম্মদসেলিম। বয়স ৫২ বছর। বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগ। এক সময় থাকতেন চট্টগ্রামেরখুলশী পাহাড়ি এলাকায়। ১৯৮৮ সালে একটি রাজনৈতিক দলের জন্য পেশাদার কারিগরহিসেবে ২৬ বছর বয়সে বানাতে শুরু করেন বোমা। অসংখ্য বার আস্তানা বদল করলেওপেশা বদল করেননি।

দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের বানিয়েদিয়েছেন হাজার হাজার বোমা। বিস্ফোরিত বোমায় হারান বাম চোখ। তখন থেকেমোহাম্মদ সেলিমের নামে পদবী যোগ হয় কানা সেলিম। এখনো এক চোখে বানিয়েযাচ্ছেন একের পর এক বোমা। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। মঙ্গলবার রাতেচট্টগ্রামের টাইগার পাস এলাকায় পুলিশের ফাঁদে আটক হয় বোমা কারিগর কানাসেলিম। বের হয়ে আসে বোমা কারিগর কানা সেলিমের ২৬ বছরের অজানা কাহিনী। চট্টগ্রামেরমনসুরাবাদ পাসপোর্ট অফিসের পেছনে রেলের একটি পরিত্যক্ত জমিতে সেলিমেররয়েছে হাতবোমা কারখানা। ২৬ বছর ধরে ক্ষমতার পালা বদলে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত তার কাছ থেকে বানিয়ে নিয়েছে হাজার হাজার বোমা (ককটেল)। তৈরির পরমিষ্টির প্যাকেটে তা সরবরাহ করা হতো। বোমা বিক্রি করেই সংসার চালাতেন কানাসেলিম। তার বানানো বোমায় হতাহতের ঘটনা নিয়ে কানা সেলিমের কোন অনুশোচনা নেই।চোখ হারানোর পর থেকে তার জন্য অন্য কোন পথ খোলা ছিল না বলে পুলিশকেঅবলীলায় জানায় ওই পেশাদার বোমা কারিগর। কারা তার বোমার ক্রেতা ছিলেন তারফিরিস্তিও জানিয়েছেন তিনি।  বাকলিয়া থানার ওসি মহসিন জানায়, ২০১৩সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের আন্দোলনের সময় মানিক নামে এক যুবদল কর্মীরমাধ্যমে বিএনপি নেতা শওকত আজম খাজার সঙ্গে কানা সেলিমের পরিচয় হয়। শওকত আজমখাজার সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী বোমা তৈরি করে চলমান সহিংসতার জন্য বোমাসরবরাহ করতো সেলিম। সেলিম এ পর্যন্ত ৫০০ বোমা তৈরি করে বিএনপি নেতা খাজাকেসরবরাহ করেছে। কানা সেলিমকে দল ক্ষমতায় গেলে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেয়ারপ্রলোভন দেখিয়ে টাকার বিনিময়ে বোমা বানাতে চুক্তি করেন বিএনপি নেতা খাজা।চুক্তি অনুযায়ী কানা সেলিম এক কেজি বোমা তৈরির সরঞ্জামের জন্য ১০ হাজারটাকা ও প্রতিটি ককটেলের জন্য ১শ টাকা করে বিএনপি নেতা খাজার কাছ থেকে নেন।পরে যুবদল ও ছাত্রদল কর্মীদের সহায়তায় তা সরবরাহ করা হতো নগরীর বিভিন্নস্থানে। সেলিমের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পাহাড়তলী বাজার থেকে প্রকাশকান্তি নাথ (৩৪) ও বক্সিরবাজার থেকে নিতাই দেবনাথকে (৪০) গ্রেফতার করা হয়।এরা দুইজন কবিরাজি ব্যবসার আড়ালে বিস্ফোরক দ্রব্য সরবরাহ করত। তাদের দেয়াতথ্যের ভিত্তিতে বুধবার দুপুরে ডবলমুরিং থানার পাহাড়তলী রেলওয়ে বাজারেপ্রকাশ কান্তি নাথের মালিকানাধীন একটি  কবিরাজি ঔষধের দোকান থেকে ৭০০ গ্রামবিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার দুপুর দুইটার দিকে দোকানেতল্লাশি চালিয়ে এ বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করা হয়। পেশাদার এ বোমা কারিগরকেনিয়ে চট্টগ্রামের পুলিশ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে।