ব্রেকিং নিউজঃ
 
Sun, 21 Jan, 2018

 

 

 

 

     
 

কুমিল্লার তরুণদের প্রথম পছন্দ খাদির পাঞ্জাবি

বাংলাদেশ বার্তা ২৪.কম/ কুমিল্লা/ ১২ জুলাই/ পবিত্রঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে নগরীর অভিজাত বিপনী বিতান গুলোতে যেমন ক্রেতাদেরউপচে পড়া-ভিড়, তেমনি কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী খাদি কাপড়ের দোকান গুলোও কোন অংশপিছিয়ে নেই। রোববার সরেজমিনে গিয়ে-নগরীর রাজগঞ্জও লাকসাম রোডের বিভিন্নখাদি দোকানে গিয়ে

দেখা গেছে ঈদ উপলক্ষে খাদি কাপড়ে বাহারী ডিজাইনেরপাঞ্জাবি, ফতুয়া, হাফশার্ট, ট্রাউজারসহ বিভিন্ন পোশাকের পশরা সাজিয়ে বসেছেনব্যবসায়ীরা। এছাড়াও বাচ্চাদের বিভিন্ন পোশাক ও দেদারছে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরাজানান, এবার তরুণদের প্রথম পছন্দ খাদির পাঞ্জাবি। অন্যবারের তুলনায় এবারখাদির পাঞ্জাবি বেশি বিক্রি হচ্ছে। তাই ক্রেতাদের চাহিদা বিবেচনা করেব্যবসায়ীরাও খাদির বিভিন্ন ডিজাইনের পাঞ্জাবির পসরা সাজিয়েছেন।কুমিল্লারখাদি পল্লী হিসেবে খ্যাত নগরীর লাকসাম রোডে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি খাদিদোকানে ক্রেতা বিক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। দম ফেলার ফুসরত নেই কারো। কয়েকজনক্রেতা জানান, খাদি কাপড়ে অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে সম্পূর্ণ নতুনত্বেরছোঁয়া লেগেছে এবং দামের দিক দিয়ে অত্যন্ত সাশ্রয়ী। তাই তারা এ বছর খাদিপোশাকের প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন। এসব কথা জানান বিক্রেতারাও। তাদের মতেবর্তমানে খাদি শিল্পে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন নতুন আইটেম সন্নিবেশিতকরা হয়েছে। তাই বর্তমানে খাদির চাহিদা বেড়েছে। রাজগঞ্জের খাদি ঘরেরসত্ত্বাধিকারী প্রদীপ কুমার রাহা বলেন, ঐতিহ্যবাহী শিল্প হিসেবে কুমিল্লায়খাদির চাহিদা কখনো কমবে না। সময়ের ব্যবধানে এ শিল্পটি দিন দিন মানুষের নিকটজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বর্তমানে কুমিল্লার বিভিন্ন মার্কেটে ছড়িয়ে ছিটিয়েরয়েছে কমপক্ষে ১২০টি দোকান। তবে বেচা-বিক্রি হচ্ছে সর্বত্রই। তিনি জানান-এবারের ঈদে তার দোকানে পাঞ্জাবি সহ হরেক আইটেমের খাদি পোশাক বিক্রি হচ্ছে।এসব পোশাকের মধ্যে রয়েছে খাদি শার্ট ৩০০-৫০০ টাকা, শর্ট পাঞ্জাবি ৫০০-১৫০০, বাচ্চাদের ফতুয়া ৬০০-১২০০ টাকা। খাদি ক্রাপ্টের বিক্রেতা সোহেল জানানএবারের ঈদে সর্বনিম্ন ৩০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪৫০০ টাকা দরে হরেক রকমেরপোশাক বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে শেরওয়ানী ১৫০০-৩০০০, লং পাঞ্জাবি ১২০০-২০০০, বেবী আইটেম ৩০০-৮০০০ এবং জামদানী গুজরাটি ৪৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।লাকসামরোডের কুমিল্লা খাদি ভাণ্ডারের সত্ত্বাধিকারী মোঃ আরিফ হোসেনজানান-অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার খাদি কাপড়ের প্রতি মানুষের ঝোঁক বেড়েছে।তাই বিক্রিও হচ্ছে ভাল। তিনি জানান প্রত্যেক ক্রেতাই নিজেদের সামর্থ্যঅনুযায়ী খাদি কাপড় কিনতে পারছেন। তবে অভিজাত ডিজাইনের খাদি কিনতে দামের কথাচিন্তা করছেন না ক্রেতারা। এর মধ্যে ২২০০ টাকা থেকে ২৮০০ টাকা পর্যন্তশেরওয়ানী, ৭৫০ থেকে ১০০০ দামে এপ্লিক, ২৫০০-৪০০০ টাকা দামের এন্ডিসিল্ক ওমটক, ১৫০০-৩০০০ টাকার রাজশাহী সিল্ক, ৭৫০-১৫০০ টাকার আদি ইউনিটিকা লং, ২২০০থেকে ৩০০০ টাকায় ইন্ডিয়ান জিন্স এবং সেমি লং পাঞ্জাবি বেশি বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়াও বাচ্চাদের ফতুয়া ও পাঞ্জাবি ও পাওয়া যাচ্ছে ৩৫০-১২০০ টাকার মধ্যে। তিনিআরও জানান, সময়ের চাহিদাকে মাথায় রেখে খাদি শিল্পে নতুনত্বের ছোয়া লেগেছে।তাই কুমিল্লা ছাড়িয়ে খাদি এখন সমগ্র বাংলায় ছড়িয়ে পড়েছে।