ব্রেকিং নিউজঃ
 
Mon, 20 Nov, 2017

 

 

 

 

     
 

ইলিশ সংকটে চাঁদপুরের মেঘনা

বাংলাদেশ বার্তা ২৪.কম/ চাঁদপুর/ ২১ আগষ্ট/ চাঁদপুরেভরা মৌসুমে পদ্ম-মেঘনায় ইলিশ সংকটের কারণে মেঘনা-ধনাগোদা নদীর পাড়েরজেলেরা ভালো নেই। তারা নানামুখী সমস্যায় জর্জরিত হয়ে জীবন সংসার চালাচ্ছেন।নির্বিচারে জাটকা ও পোনামাছ নিধন এবং মহাজনের দাদনের টাকা পরিশোধ করতে নাপেরে অনেক পরিবার পূর্ব পুরুষের এ পেশা ছেড়ে দিয়েছেন।

আবার অনেকেই জাল, নৌকা ও ট্রলার বিক্রি করে মহাদুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন। উপজেলা মৎস্যঅফিস সূত্রে জানা যায়, মতলব উত্তর উপজেলায় নিবন্ধনকৃত মৎস্যজীবীর সংখ্যা৫হাজার তিন শ৫৩ জন ও নতুনভাবে আরো নিবন্ধনের জন্য তালিকায় রয়েছে ২ হাজার৫শ৯০ জন। তাদের মধ্যে নিয়মিত মৎস্যজীবীর সংখ্যা ৫ হাজারের বেশি।খণ্ডকালীন মৎস্য শিকারি প্রায় ১ হাজার। মৎস্য ব্যবসায়ী ১ হাজারেরও বেশি ওআড়ৎদার শতাধিক। ইলিশের পোনা জাটকা রক্ষায় সরকার ২০০৩ সালে মেঘনাসহদেশের তিনটি নদী অঞ্চলকে মার্চ-এপ্রিল দুমাস অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করে। এসময় নদীতে সকল প্রকার মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। চাঁদপুর জেলার মতলবউত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুর জেলার চরআলেকজান্ডার পর্যন্ত মেঘনারএকশ২০ কিলোমিটার নদী অঞ্চল দেশের অন্যতম অভয়াশ্রম অঞ্চল। অভয়াশ্রমকার্যক্রমে সময় মূলধন ঝুঁকি ও আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় ইলিশ, পাঙ্গাস, আইড়, বোয়ালসহ বড় প্রজাতির মাছ ধরার কোনাজাল, চাপজাল ও ডোম জালের অধিকাংশ মালিকরানিজেরাই জাল নৌকা বন্ধ রাখে। ফলে এসব নৌকার জেলেরা বেকার হয়ে পড়ে।অভয়াশ্রম কর্মসূচির শেষে বন্ধ জাল নৌকার মালিকরা ধারদেনা করে ও ঋণ দিয়ে জালনৌকা মেরামত করে ভাগিদার জেলেদের দাদন টাকা দিয়ে নদীতে নামে। নদীর মাছশিকারে কোনো নিয়মনীতি মানা হচ্ছে না। কারেন্ট জাল, মশারি জাল ও ঘনজালব্যবহারের ফলে নদীতে মাছের আকাল দেখা দিয়েছে। মেঘনা ও ধনাগোদা নদীতে ইলিশআসছে না। ফলে নদীতে নেমে জেলেরা শূন্য হাতে ফিরে আসছে। ইলিশ ধরতেসারাদিনে ডিজেল ও জেলেদের খাবারসহ দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা খরচ হয়।জেলেরা সারাদিন শ্রম দিয়েও খরচের টাকার মাছ পাচ্ছে না। জেলেদের লোকসানহচ্ছে। মালিক ও জেলেরা বাধ্য হয়ে জাল নৌকা বন্ধ রাখছে। এ কারণে মতলবেরহাজার হাজার জেলের মাঝে এখন দুর্দিন দেখা দিয়েছে। অভয়াশ্রমের যাঁতাকলেপিষ্ট জেলেদের উপর এ যেনো মরার উপর খাড়ার ঘা। এদিকে উপজেলার অধিকাংশখাল-বিল ও জলাশয়গুলো লীজ দেয়া হচ্ছে। জেলেদের জীবিকার উৎস ছিল খাল-বিল ওজলাশয়গুলো। খাল-বিল ও জলাশয়গুলো অন্যদের দখলে চলে যাওয়ায় তারা তাদের এ পেশানিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। মেঘনা-ধনাগোদা নদীর পাড়ের বিভিন্নজেলে পল্লীতে গেলে দেখা যায়, তাদের কষ্টের করুণ জীবনচিত্র। পুষ্টিহীনতারশিকার শীর্ণ শিশুদের বেঁচে থাকার আকুল আকুতি। কয়েকজন জেলে ক্ষোভ ও দুঃখেরসঙ্গে জানায়, কেউ তাদের খোঁজ নেয় না। জানতে চায় না তাদের সুখ-দুঃখ, সুবিধা-অসুবিধার কথা। চাঁদপুর জাল-নৌকা সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদকশাহালাম মল্লিক জানান, দুই মাস হাত পা গুঁটিয়ে বসে থাকা জেলেরা উৎসাহ নিয়েইলিশ ধরার উদ্দেশ্যে জাল নিয়ে ছুটছে মেঘনায়। কিন্তু ইলিশের এই ভরা মৌসুমেদিনভর মেঘনায় কাটালেও তাদের জালে রূপালী ইলিশ ধরা পড়ছে না। ৮/১০ ঘণ্টা শ্রমদেয়ার পর জেলেরা নিরাশ হয়ে বাড়ি ফিরছে। মাছ না পেয়ে মালিক ও জেলেরা চরমদুরবস্থার মুখে পড়েছে। চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শফিকুর রহমানজানান, নদী দূষণ ও ইলিশের খাদ্য সংকটের কারণে এখন পদ্মা, মেঘনায় আগের মতইলিশ মাছ আসছে না। ইলিশ এখন সাগরেই থেকে যাচ্ছে।