ব্রেকিং নিউজঃ
 
Tue, 21 Nov, 2017

 

 

 

 

     
 

শরীয়তপুরের নিহত ৪জনসহ আট পরিবারে শোকের মাতম

বাংলাদেশ বার্তা ২৪.কম/ শরিয়তপুর/ ৩০ আগস্ট/ গতবৃহস্পতিবার ইতালি যাওয়ার পথে লিবিয়া উপকূলে ট্রলার ডুবির ঘটনায়শরীয়তপুরের আট যুবক নিখোঁজ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। ট্রলার ডুবির খবর পাওয়ারপর হতে তাদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা কোন রকম যোগাযোগ করতে পারছে না।তাদের মৃত্যু হয়েছে এমন আশঙ্কায় পরিবারের

সদস্যরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছে। নড়িয়াউপজেলার বিঝারী ইউনিয়নের কাজির শুকুর গ্রামের জাকির হোসেন কাজি (৪০) চারবছর আগে কাজের সন্ধানে মিশর যায়। সেখানে ভাল কাজ না পাওয়ায় দুই বছর আগেলিবিয়ায় পাড়ি জমায়। সে লিবিয়ার ত্রিপোলিতে থাকত। ইয়াকুব হাওলাদার (২২) ওবিল্লাল দেওয়ান (২৪) নামে তার স্ত্রীর ভাইয়ের দুই ছেলে লিবিয়ার বেনগাজিশহরে থাকত। তাদের নিয়ে সে বুধবার ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে ট্রলারে ওঠে।ট্রলার ছেড়ে যাওয়ার আগে তাদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের কথা হয়। এরপর থেকেতাদের আর কোন খবর পায়নি পরিবারের সদস্যরা।এছাড়াও নড়িয়া উপজেলার ভুমখারাগ্রামের নান্নু ঢালীর পুত্র সুমন ঢালী (২৫), রাহা পাড়া গ্রামের হারুনবেপারীর পুত্র সুমন বেপারী (২৭) ও বাংলাবাজার গ্রামের সোলায়মান হোসেনেরপুত্র জসিম উদ্দিন (৩০) ওই ট্রলারের যাত্রী ছিল। ট্রলার ডুবে যাওয়ার পরথেকে পরিবারের সদস্যরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি। এছাড়া স্বপন ওআজাদ নামের দুই যুবক নিখোঁজ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের পরিচয় এখনও জানাযায়নি। জাকির হোসেন কাজির স্ত্রী মনতারা বেগম বলেন, সংসারের অভাব দূরকরার জন্য চার বছর আগে আমার স্বামী মিশর যায়। আরো বেশি আয় করার জন্য লিবিয়াযায়। সেখানকার অবস্থা ভাল না হওয়ায় ইতালি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। শুনেছিনারায়ণগঞ্জের এক দালালের মাধ্যমে লিবিয়া থেকে নৌ-পথে ইতালি যাওয়ার জন্যটাকা দেয়। বুধবার ট্রলারে ওঠার আগে ফোন করে সবাইকে দোয়া করতে বলে। মানুষটাবেঁচে আছে না মারা গেছে এক মাত্র আল্লাহই জানেন।নড়িয়া উপজেলার হালইসারগ্রামের নুরুল হক হাওলাদারের পুত্র ইয়াকুব হাওলাদার ও জয়নাল দেওয়ানের পুত্রবিল্লাল দেওয়ান দুই বছর আগে লিবিয়া যায়। তারা বেনগাজিতে শহরে থাকত। ইতালিযাওয়ার জন্য এক সপ্তাহ আগে ত্রিপোলিতে ফুপা জাকির হোসেন কাজির কাছে যায়।তারা বুধবার ট্রলার যোগে ইতালিতে রওনা দেয়। ট্রলারডুবিতে তারা নিখোঁজ হয়।ইয়াকুবহাওলাদারের বোন আকলিমা বেগম বলেন, বুধবার বাড়িতে ফোন করে জানায় ফুপা জাকিরহোসেন কাজির সঙ্গে নৌ-পথে ইতালি যাচ্ছে। এর পর থেকে তাদের কোন সংবাদপাচ্ছিনা। আল্লাহই জানেন তাদের কি পরিণতি হয়েছে।নিখোঁজ যুবকরা ট্রলারযোগে ইতালির উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফোনে কথাবলে। তাদের আর কোন সন্ধান না পেয়ে প্রতিটি পরিবারে চলছে শোকের মাতম। রোববারনিখোঁজ সুমন বেপারি, ইয়াকুব হাওলাদার, সুমন ঢালী ও জাকির হোসেন কাজির বাড়িগিয়ে দেখা যায়,পরিবারের সদস্যরা বিলাপ করছে। জাকিরের স্ত্রী মনতারা বেগমশিশুপুত্র জাহিদ ও মেয়ে জান্নাতুলকে কোলে নিয়ে আহাজারি করছে। জাকিরের মারাবেয়া বেগম বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন আর বলছেন তোমার আমার ছেলেকে এনে দাও।আমি কিভাবে তার শিশু সন্তানদের বড় করে তুলব? শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসকরাম চন্দ্র দাস বলেন, গণমাধ্যমে খবর দেখে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেসংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হয়। তারা নিখোঁজ যুবকদের সম্পর্কে কোনতথ্য দিতে পারেনি। আমাদের করণীয় সম্পর্কে মন্ত্রণালয় কোন নির্দেশনা দেয়নি।জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আমরা নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ করছি।

সংবাদ শিরোনাম