ব্রেকিং নিউজঃ
 
Sat, 23 Sep, 2017

 

 

 

 

     
 

জাজিরায় পদ্মা নদীতে অবাধে চলছে জাটকা শিকার

বাংলাদেশ বার্তা ২৪.কম/ শরিয়তপুর/ ২১ মার্চ/ ইলিশ শিকারের নিষিদ্ধ মৌসুমে শরীয়তপুরে পদ্মা নদীর জাজিরা সীমানায় শনৌকা ভাড়া করে অবাধে জাটকা শিকার করছে স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র। প্রশাসনেরনীরবতায় এই অসাধু ব্যক্তিরা প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে ধ্বংস করে চলেছে আগামীদিনের বিপুল ইলিশ ভাণ্ডার। জেলা মৎস

কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মার্চ-এপ্রিল দুই মাস ইলিশসহ সব ধরনেরমাছের বেড়ে ওঠার সময়। এছাড়া এ সময় নদীতে কয়েকটি প্রজাতির মাছ ডিম ছাড়ে।তাই শরীয়তপুরের নড়িয়া ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার একাংশ নিয়ে প্রায় ২০ কিমি এলাকাইলিশের ৫ম অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে । এর বাইরেও জেলার জাজিরা, গোসাইরহাট ওভেদরগঞ্জ উপজেলার আরো অন্তত ৪০ কিলোমিটার এলাকায় রয়েছে ইলিশের প্রজনন ওবিচরণ ক্ষেত্র। অভায়াশ্রমের অভ্যন্তরে কোস্টগার্ড, মৎস বিভাগ ও ভ্রাম্যমাণআদালত অভিযান পরিচালনা করলেও অভায়াশ্রমের বাইরে কোন রকম অভিযান পরিচালনা নাকরায় শনৌকা ভাড়া করে জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডুবা থেকে কুণ্ডেরচরপর্যন্ত প্রায় ২০ কিমি এলাকায় স্থানীয় ক্ষমতাধররা জেলেদের সাথে চুক্তি করেদিন-রাত শিকার করে চলেছে জাটকা ইলিশ। সূত্র জানায়, জাজিরার বাইরেও ভেদেরগঞ্জের আরশি নগর থেকে গোসাইরহাটেরবিষকাটালি পর্যন্ত আরো প্রায় ২৫ কিমি এলাকা জুড়ে চলছে জাটকা নিধন। সরেজমিন পরিদর্শন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাজিরা উপজেলার পালেরইউনিয়নের চেয়ারম্যানের ভাই আনোয়ার মুন্সি, ইউপি সদস্য জুলহাস রাঢ়ি, ছোহরাবমাদবর ইদ্রিস রাঢ়িসহ অন্তত ১০ জনের একটি চক্র পদ্মা নদীর জাজিরা অংশে প্রায়২০ কিমি এলাকা জুড়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে জাল-নৌকা-জেলে ভাড়া করে এনেতাদের দিয়ে কমিশনের চুক্তিতে জাটকা শিকার করাচ্ছে। অবৈধ জাটকা শিকারি জেলেদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, যেসব এলাকায় অভায়শ্রমঘোষণা করা হয়েছে সেখানে কোস্ট গার্ডের পাহারার কারনে তারা নদীতে নামতে নাপারায় বেকার হয়ে পড়েছে। তাই স্থানীয় এক ইউপি মেম্বার এবং অন্যান্যদের শতকরা১০-২০ টাকা হারে চুক্তিতে এ অঞ্চলে অবাধে জাটকা শিকার করছে। এমনি প্রায়১২০টি নৌকা দিয়ে দিন-রাত পদ্মায় মাছ ধরার কথা জানিয়েছে তারা। ভেদরগঞ্জ উপজেলার দুলারচর এলাকার জেলে মোজাম্মেল হোসেন, তারাবুনিয়ার জেলেশহিদুল ইসলাম, চরভাগার জেলে বাচ্চু মিয়া, চরমোহনের জেলে ইদ্রিস আলী ওকাচিকাটা গ্রামের জামাল সরদার জানান, আমাদের এলাকায় ২ মাস নদীতে জাল ফেলাসরকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পর কোস্ট গার্ডের ভয়ে জাল নৌকা নিয়ে বাড়িতেবসেছিলাম। পালেরচরের মেম্বার জুলহাস রাঢ়ি ও সোহরাব মাদবর আমাদের ভাড়া করেএনেছে। তাদেরকে শতকরা ১০-২০ টাকা দিতে হয়। আমরা মাছ ধরার পর তারাই বিক্রিকরে দেয়। নদী থেকেই মাছগুলো মাওয়া হয়ে চলে যায় ঢাকাসহ অন্যান্য বাজারে। জেলেরা আরো জানান, জুলহাস রাঢ়ি একাই এনেছেন ১০ নৌকা এবং সোহরাব মাদবরেরাকয়েকজনে মিলে এনেছেন প্রায় ২৪টি নৌকা। একেকটি নৌকায় প্রতিদিন ৪-৫ হাজারটাকার মাছ ধরা পড়ে। ভেদরগঞ্জের কাঁচিকাটা ইউনিয়নের দুলারচর গ্রামের জেলে কামাল মাঝি বলেন, জাটকা ধরা অবৈধ আমরা জানি, তারপরেও এনজিওর কিস্তি এবং আড়তদারের দাদনের ঋণপরিশোধ করতেই অবৈধ জেনেও জাটকা শিকারে নেমেছি। তা না হলে যে সংসারের সবাইকেনিয়ে না খেয়ে মরতে হবে। আর দেনার দায়ে মহাজনকে জাল-নৌকা বিক্রি করে টাকাফেরৎ দিতে হবে। পালেরচর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের মেম্বার জুলহাস রাঢ়ি বলেন, আমি সরাসরি কোননৌকা ভাড়া করিনি। তবে দুলাল মাদবর, তোতা মিয়া, লতিফ সরদার, ইদ্রিস রাঢ়ি, ছোহরাব মাদবর, মান্নান মাদবর, আক্কাস বেপারী ও আনোয়ার মুন্সি মিলে মোট ৩৩টিনৌকা ভাড়া করে এনেছেন। তারাই জেলেদের দিয়ে মাছ ধরিয়ে থাকতে পারে। শরীয়তপুর জেলার ভারপ্রাপ্ত মৎস কর্মকর্তা মো. মোহসীন বলেন, শরীয়তপুরেরনৌ-সীমায় ২০ কিলো মিটার এলাকা নিয়ে দেশের ৫ম ইলিশের অভায়শ্রম ঘোষণা করাহয়েছে কয়েক বছর আগে। এখন ২ মাস এই ২০ কিমি এলাকায় আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালত ওকোস্টগার্ডের সহায়তায় নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। তারপরেও অভায়শ্রমের বাইরেকিছু অসাধু লোকের জাটকা শিকার করার তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। আমরা প্রশাসনেরসাহায্য নিয়ে এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। তিন সপ্তাহেরও অধিক সময় ধরে জাজিরার নৌসীমানায় প্রভাবশালীদের জাটকা শিকারেরকথা জানতে চাইলে জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাদের বলেন, পদ্মায় জাটকা শিকারের কথা আপনার কাছেই প্রথম জানলাম। এ ধরনের কোন তথ্যআমাদের জানাদের নেই। আপনি যেহেতু জানালেন, এখন ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথেকথা বলে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

সংবাদ শিরোনাম