ব্রেকিং নিউজঃ
 
Tue, 21 Nov, 2017

 

 

 

 

     
 

ঘোড়াশাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ছে ২৩০ মেগাওয়াট

বাংলাদেশ বার্তা ২৪.কম/ কিশোরগঞ্জ/ ২৯ অক্টোবর/ ঘোড়াশালবিদ্যুৎ কেন্দ্রের চতুর্থ ইউনিট আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। এর উৎপাদন ক্ষমতা২৩০ মেগাওয়াট থেকে বেড়ে হবে ৪০০ মেগাওয়াট। এতে ব্যয় হবে ৪০ কোটি মার্কিনডলার। বিশ্বব্যাংক ৩০ কোটি ডলার ঋণ দেবে। সরকার ব্যয় করবে ১০ কোটি ডলার।২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার

এ ইউনিটে বর্তমানে ১৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়।বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ অফিস ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে এসবতথ্য জানা গেছে। ইআরডির অতিরিক্ত সচিব কাজী শফিকুল আযম জানান, আধুনিকায়নেরমাধ্যমে ঘোড়াশাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো হবে। উন্নতপ্রযুক্তি ব্যবহার করায় জ্বালানি খরচও কমে আসবে প্রায় ৪৩ শতাংশ।বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে কেইএমএ নামক একটি সংস্থা সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে। সূত্রজানায়, সম্প্রতি এক বৈঠকে বিশ্বব্যাংক বিদ্যুৎ খাতে ৩০ থেকে ৩৫ কোটিমার্কিন ডলার ঋণ সহায়তা দিতে রাজি হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে ইআরডি থেকেবিদ্যুৎ বিভাগের কাছে নতুন প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চেয়ে একটিচিঠি দেয়া হয়। পরে পাঁচটি প্রকল্পের অগ্রগতি ইআরডিকে জানানো হয়। এ তালিকায়রিপাওয়ারিং অব ঘোড়াশাল চতুর্থ ইউনিট প্রকল্পের নাম রয়েছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎউন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এর আওতায় টারবাইনেরসঙ্গে গ্যাস টারবাইন যুক্ত করে কম্বাইন্ড সাইকেল করা হবে। কেন্দ্রটিরআধুনিকায়নের ফলে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ করতে ১৭কিলোমিটার নতুন সঞ্চালন লাইন এবং একটি নতুন উপকেন্দ্র প্রয়োজন হবে। এলক্ষ্যে টঙ্গী গ্রিডের সঞ্চালন লাইনকে ডাবল সার্কিটে উন্নীত করবে পাওয়ারগ্রিড কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড। এজন্য আড়াই কোটি ডলার বরাদ্দ দেয়া হবে।বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে লাইন নির্মাণে ব্যয় হবে দেড় কোটিডলার। এর বাইরে আরও ১ কোটি ডলার ব্যয় করে একটি কারিগরি সহায়তা প্রকল্পবাস্তবায়ন করা হবে। আগামী বছরের শুরুতে বিশ্বব্যাংকের বোর্ড সভায়ঋণপ্রস্তাব উপস্থাপন হতে পারে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনসাপেক্ষে ঋণ চুক্তি হবে। বিশ্বব্যাংকের প্রকল্পতথ্য পত্রে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের দুর্বলতা ফুটে উঠেছে। এতে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে মাথাপিছু বিদ্যুতের ব্যবহারঅর্ধেক। দেশের মাত্র ৫৫ শতাংশ পরিবার বিদ্যুতের সুবিধা পায়। আট হাজারমেগাওয়াটের চাহিদার বিপরীতে বাংলাদেশে বিদ্যুতের উৎপাদন মাত্র সাড়ে ছয়হাজার মেগাওয়াট। অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুতেরউৎপাদন ৩০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করতে হবে। এজন্য বিনিয়োগ করতে হবে ৫হাজার ৯০০ কোটি ডলার। এতে আরও বলা হয়, বর্তমানে সরবরাহের ৭৫ শতাংশ বিদ্যুৎগ্যাসনির্ভর। তরল জ্বালানি থেকে আসে ১৯ শতাংশ বিদ্যুৎ। এর বাইরে পানিব্যবহার করে ৩ শতাংশ ও কয়লা ব্যবহার করে ৩ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।তবে চাহিদার তুলনায় গ্যাসের সরবরাহে ঘাটতি থাকায় এ খাতে নির্ভরতা কমাতেহবে। এতে আরও বলা হয়, ২০১৮ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সাড়ে ১১ হাজারমেগাওয়াটে উন্নীত করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। লক্ষ্য অর্জনে বড় ঝুঁকিরয়েছে বিপিডিবির অদক্ষতার কারণে। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ৪২ শতাংশনিয়ন্ত্রণ করে সংস্থাটি। এসব কেন্দ্রে সামর্থ্যের মাত্র ৩০ ভাগ বিদ্যুৎউৎপাদন হয়। বিশ্বব্যাংক জানায়, সংস্থাটির অর্থায়নে সর্বশেষ প্রকল্পবাস্তবায়ন হয়েছিল ১৯৯৯ সালে। এ খাতে ১৯৮৮ সালের পর আর কোনো সফল প্রকল্প নেইবিশ্বব্যাংকের।

সংবাদ শিরোনাম