ব্রেকিং নিউজঃ
 
Tue, 21 Nov, 2017

 

 

 

 

     
 

শোলাকিয়ায় দেশের বৃহত্তম জামাত অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ বার্তা ২৪.কম/ কিশোরগঞ্জ/ ৬ অক্টোবর/ কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে দেশের বৃহত্তম ঈদের জামাতঅনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারের ঈদুল আজহার জামাতটি ছিল শোলাকিয়ায় ১৮৭তম ঈদেরজামাত।সোমবার সকাল ৯টায় ঈদুল আজহার এ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতেইমামতি করেন ইসলাহুল মুসলিমিন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা মো. ফরিদ উদ্দিনমাসউদ।

তবে ঈদুল ফিতরের তুলনায় এ জামাতে লোকসমাগম কম হলেও লক্ষাধিকমুসল্লি নামাজ আদায় করেছেন বলে রাইজিংবিডিকে জানিয়েছেন ঈদগাহ পরিচালনাকমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক এস এম আলম।দেশের বিভিন্ন জেলা থেকেআসা মুসল্লিরাও শোলাকিয়া ময়দানে নামাজ আদায় করেছেন। জামাতে জেলা প্রশাসকসহসর্বস্তরের গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও এ মাঠে নামাজ আদায়করেন জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ইলেকট্রনিকস, অনলাইন মিডিয়া ওপ্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক, এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তি ও অসংখ্য সাধারণমুসল্লিরা।নামাজ শেষে মাওলানা মো. ফরিদ উদ্দিন মাসউদ বলেন, ‘ডাক, টেলিযোগাযোগ ও প্রযুক্তিমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী হজ ও তাবলিগ জামাতনিয়ে বিরূপ মন্তব্য করায় প্রধানমন্ত্রী তার বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা গ্রহণকরেছেন সেটি সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল।এ ছাড়া রাষ্ট্রপতিসহ যে সকল মুসলমান হজকরতে গিয়েছেন তারা যেন সুস্থভাবে দেশে ফিরে আসতে পারেন সেই দোয়া করেন। শহীদমুক্তিযোদ্ধা ও  অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যও বিশেষ দোয়া পাঠ হয়।এদিকেপৃথকভাবে নারীদের জন্য একটি বিরাট জামাত অনুষ্ঠিত হয় কিশোরগঞ্জ এস ভিসরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে। এতে ইমামতি করেন মাওলানা মোহাম্মদছানাউল্লাহ।ঈদ জামাতকে ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছিলবিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মুসল্লিদের সুবিধার্থে এবারও ভৈরব এবং ময়মনসিংহথেকে দুটি স্পেশাল ট্রেন সকাল ৬টায় ছেড়ে আসে।মুসল্লিদের জনশ্রুতিআছে, এ মাঠে পরপর তিনটি ঈদের জামাত আদায় করলে এক কবুল হজের সওয়াব পাওয়াযায়। সে জন্য শোলাকিয়া মাঠ গরিবের মক্কা নামে পরিচিত। ঈশা খাঁর ষষ্ঠ বংশধরদেওয়ান মান্নান দাদ খান কিশোরগঞ্জের জমিদারি প্রতিষ্ঠার পর ইংরেজি ১৮২৮সালে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পূর্ব প্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে প্রায় ৭ একরজমির ওপর এই ঈদগাহ প্রতিষ্ঠা করেন।শোলাকিয়ায় প্রথম অনুষ্ঠিত জামাতেসোয়া লাখ মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন বলে মাঠের নাম হয় সোয়া লাখি মাঠ। সেখানথেকে উচ্চারণের বিবর্তনে নাম ধারণ করেছে আজকের শোলাকিয়া মাঠে। প্রতিবছরই এসংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।ঈদের নামাজ মাঠে পড়া সুন্নতেমোয়াক্কাদাহ এবং যে জামাতে মুসল্লি যত বেশি হয়, সওয়াবও তত বেশি হয় এবংগুনাহ মাফ হয়। এই বিশ্বাস থেকেই ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা শোলাকিয়ায় নামাজ পড়তেআসেন।প্রায় দুই শ বছরের পুরোনো শোলাকিয়া ঈদগাহটি ঐতিহ্যের তুলনায়উন্নয়ন ও সংস্কারের ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে আছে। শোলাকিয়া ঈদগাহকে শোলাকিয়াআন্তর্জাতিক ঈদগাহ নামকরণ ও মুসল্লিদের সুবিধার্থে মাঠের পরিসর বৃদ্ধি এবংঅবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি দীর্ঘদিনের।শোলাকিয়ায় ঈদ জামাত উপলক্ষেপ্রতিবারের মতো এবারো ঈদগাহসংলগ্ন মাঠ ছাড়াও শহরের বিভিন্ন স্থানে ঈদমেলাবসেছিল। স্থানে স্থানে নির্মিত হয় তোরণ, রাস্তার দুই পাশে টাঙানো হয়রংবেরঙের পতাকা ও ব্যানার। জামাতের আগে-পরে শহর হয়ে ওঠে লোকারণ্য ওউৎসবমুখর।

সংবাদ শিরোনাম