ব্রেকিং নিউজঃ
 
Thu, 18 Jan, 2018

 

 

 

 

     
 

তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন হাইকোর্টে জমা দিয়েছেন

বি-বার্তা/ শাহ আলী পিন্টু খান/নারায়ণগঞ্জ/ ১৪ মে/ নারায়ণগঞ্জে ৭হত্যাকান্ডের ঘটনায় হাইকোটের্র নির্দেশে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন হাইকোর্টে জমা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার এ অগ্রগতি প্রতিবেদন নিয়ে শুনানি

হবে সংশ্লিষ্ট হাইকোর্ট বেঞ্চে। তদন্ত কমিটির সদস্য আইন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মিজানুর রহমান খান বুধবার দুপুরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এএসএম নাজমুল হকের কাছে এ প্রতিবেদন জমা দেন। তার সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি সলিসিটর (রিট) অঞ্জন কুমার সাহা। জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশের মহাপরিদর্শক, র্যাবের মহাপরিচালক, সিআইডির প্রধান এবং সাত সদস্যের তদন্ত কমিটির পক্ষে আলাদা করে মোট ৬টি ফাইল জমা দেওয়া হয়। মিজানুর রহমান খান সাংবাদিকদের বলেন, তদন্তের ৩ পৃষ্ঠার অগ্রগতিমূলক প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। এখন পর্যন্ত আমাদের কাজের ব্যাপারে আমরা সন'ষ্ট। তদন্তের জন্য আরও ৪ সপ্তাহের সময় চাওয়া হবে বলেও জানান উপ-সচিব মিজানুর রহমান খান। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এএসএম নাজমুল হক বলেন, বৃহস্পতিবার এ অগ্রগতি প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট হাইকোর্ট বেঞ্চে উত্থাপন করা হবে। ওই দিন এ নিয়ে শুনানি হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কমিটির এক সদস্য জানান, অগ্রগতি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিক্টিম পরিবারগুলোর ২৭ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। আর গণশুনানিতে সাক্ষ্য দিয়েছেন আরও ছয়জন। প্রতিবেদনে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের কথা বলা হয়েছে। অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যদের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। আরো জানান, বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ সার্কিট হাউজে এ বিষয়ে দ্বিতীয় দফায় গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-২ নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ সাতজনকে অপহরণ ও খুনের ঘটনায় র‌্যাব ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ অন্যদের জড়িত থাকার অভিযোগসহ সার্বিক বিষয়ে তদনে- হাইকোটের্র নির্দেশে গত ৭ মে উচ্চ পর্যায়ের প্রশাসনিক এ তদন্ত কমিটি গঠন করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তদন্ত কমিটির প্রধান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাহজাহান আলী মোল্লার নেতৃত্বে ৭ সদস্যের এ কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দুই উপ-সচিব মো. আবদুল কাইয়ুম সরকার ও আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন, আইন মন্ত্রণালয়ের দুই উপ-সচিব মোস্তাফিজুর রহমান ও মিজানুর রহমান খান এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুই উপ-সচিব শফিকুর রহমান ও সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দার। বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে গত ৫ মে অপহরণ, গুম, হত্যার ঘটনায় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো গাফিলতি আছে কিনা এবং র্যাব ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ অন্যদের জড়িত থাকার অভিযোগসহ সার্বিক বিষয়ে তদন- করতে এ তদন- কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। র্যাবের সহযোগিতায় সাতজনকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় ৬ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ ওঠার পর হাইকোটের্র এ নির্দেশ আসে। সাতজনকে অপহরণ ও হত্যা এবং ৬ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ বিষয়ে র্যাবের সম্পৃক্ততা আছে কীনা তা বিভাগীয়ভাবে তদন্ত করতে র্যাবের মহাপরিচালকের প্রতিও নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। তবে ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলা র্যাব তদন্ত করতে পারবে না বলে নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) পাশাপাশি সিআইডি (অপরাধ তদন্ত বিভাগ) প্রধানকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ঘটনার সকল সাক্ষীকে নিরাপত্তা দিতে পুলিশের আইজিকে (মহাপরিদর্শক) নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রশাসনিক তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যেই নারায়ণগঞ্জের ঘটনাস্থল ও লাশ উদ্ধারের স্থান পরিদর্শন, নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও গণশুনানি গ্রহণসহ তদন্ত কাজ এগিয়ে নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার তদন্ত কমিটি নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সেভেন মার্ডারের বিষয়ে দ্বিতীয় দফায় গণশুনানি গ্রহণ করবেন। যে কেউ এ গণশুনানিতে তথ্য দিতে পারবেন। অন্যদিকে র‌্যাব-১১ এর সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে ৪ সদস্যের পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে র্যাব। র্যাব-১১ এর ৩ কর্মকর্তাকে প্রথমে সেনাবাহিনীতে প্রত্যর্পণ করে পরে গত ৬ মে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। চাকরিচ্যুত র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মাহমুদ, সাবেক অধিনায়ক মেজর আরিফ হোসেন ও লে. কমান্ডার এম এম রানাকে গ্রেফতারে গত ১১ মে আদেশ দিয়েছেন বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশিদ আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ। স্বরাষ্ট্র সচিবকে দেওয়া নির্দেশে দণ্ডবিধি বা বিশেষ ক্ষমতা আইনে তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্টি কোনো অভিযোগ থাকলে সেই ঘটনায় গ্রেফতার করতে বলা হয়েছে। অভিযোগ না থাকলে তাদের ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করতে বলা হয়েছে। গ্রেফতারের পর তাদের ডিবির কাছে হস্তান্তর করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্তবর্তীকালীন এ আদেশের পাশপাশি রুল জারি করেন আদালত। নিহত চন্দন কুমার সরকারের জামাতাসহ তিনজনের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন। অ্যাডভোকেট চন্দন কুমার সরকারসহ নিহত সাত জনের মৌলিক অধিকার রক্ষা ও তাৎক্ষনিক পদক্ষেপ গ্রহনে বিবাদীদের ব্যর্থতা চ্যালেঞ্জ করে নিহত চন্দন কুমার সরকারের জামাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সহকারী অধ্যাপক ডা. বিজয় কুমার পাল, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন ও আমরা নারায়নগঞ্জবাসীর নির্বাহী সভাপতি মাহবুবুর রহমান ইসমাঈল রিট আবেদনটি করেন। গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ থেকে একসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-২ নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, নজরুলের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার এবং তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক ইব্রাহিম অপহৃত হন। পরদিন ২৮ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন নজরুল ইসলামের স্ত্রী। কাউন্সিলর নূর হোসেনকে প্রধান করে মামলায় আসামি করা হয় মোট ১২ জনকে। গত ৩০ এপ্রিল বিকেলে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ৬ জন এবং ১ মে সকালে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত সবারই হাত-পা বাঁধা ছিল। পেটে ছিল আঘাতের চিহ্ন। প্রতিটি লাশ ইটভর্তি দুটি করে বস্তা বেঁধে ডুবিয়ে দেওয়া হয়। গত ৩ মে নূর হোসেনের সিদ্ধিরগঞ্জের বাসায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ ১৬ জনকে গ্রেফতার এবং রক্তমাখা মাইক্রোবাস জব্দ করে। এরপর গ্রেফতার করা হয় আরো ৭ জনকে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় র্যাব-১১ এর কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করেন নিহত প্যানেল মেয়র নজরুলের পরিবারের সদস্যরা। প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের শ্বশুর অভিযোগ করেন, ৬ কোটি টাকার বিনিময়ে র‌্যাব-১১ দিয়ে ওই সাতজনকে হত্যা করিয়েছেন নূর হোসেন।

সংবাদ শিরোনাম